ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞান মেলা ‘জয় অব ইনোভেশন’ অনুষ্ঠিত

ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞান মেলা ‘জয় অব ইনোভেশন’ অনুষ্ঠিত

জবি সংবাদদাতা: তরুণ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের (আইএইচএফ) বার্ষিক বিজ্ঞান মেলা ‘জয় অব ইনোভেশন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর আগা খান একাডেমি ঢাকায় দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে এ বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের নানা সমস্যার সৃজনশীল সমাধান তুলে ধরে।

মেলায় ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ১২টি দল তাদের উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শন করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, ইগনাইট গ্লোবাল ফাউন্ডেশন, দোয়েল স্কুল, ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস স্কুল, হাসিমুখ, ইগলাল’স এবিসি চ্যারিটি স্কুল, কে কে ফাউন্ডেশন, এইম ইনিশিয়েটিভ ফাউন্ডেশন ও স্পন্দনবি স্কুল। প্রকল্পগুলোতে স্মার্ট ইঞ্জিনিয়ারিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পানির সংকট, কৃষি, তাপপ্রবাহ ও জলবায়ু সহনশীল বসতি নির্মাণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের ধারণা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আদনান হোসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক সাদিয়া হানিফ চৌধুরী।

প্রদর্শিত বিজ্ঞান প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করেন আগা খান একাডেমি ঢাকার তিন শিক্ষক। তাঁরা হলেন জীববিজ্ঞান বিভাগের মিস রামিসা বুশরা, রসায়ন বিভাগের মিস ইনোসে চাভানে ও গণিত বিভাগের মিস তাবাসসুম বিনতে জামাল। প্রকল্পগুলোর সৃজনশীলতা, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্যতার বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা মূল্যায়ন করেন।

বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনীর পাশাপাশি মেলায় পরিবেশিত হয় সচেতনতামূলক নাটক ‘ডিজিটাল ফাঁদ’। এতে অনলাইন নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ম্যাজিশিয়ান ও ইনফ্লুয়েন্সার আজওয়াদ মোস্তাফিজ আদর পরিবেশন করেন বিশেষ ম্যাজিক শো। তাঁর পরিবেশনা উপস্থিত শিশু-কিশোরসহ দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আনন্দের সৃষ্টি করে।

মেলার প্রতিযোগিতায় দোয়েল স্কুল ও হেল্প ফর ডিপ্রাইভড ফাউন্ডেশন চ্যাম্পিয়ন, হাসিমুখ ফাউন্ডেশন স্কুল প্রথম রানারআপ এবং সুইচ তাহমিনা বানু বিদ্যা নিকেতন দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সমাপনী পর্বে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে মেডেল, সনদপত্র ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন আগা খান একাডেমি ঢাকার প্রধান স্যান্ডি ম্যাকেঞ্জি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্যম, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু আবিষ্কার ও উদ্ভাবনে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মেলাটি সফলভাবে আয়োজন ও পরিচালনায় আগা খান একাডেমি ঢাকার ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োজনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

আয়োজকরা জানান, ‘জয় অব ইনোভেশন’ বিজ্ঞান মেলা ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) এবং পরিবেশবিষয়ক শিক্ষার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও ক্ষমতায়িত করার উদ্যোগের অংশ। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অনুসন্ধান, দলগত কাজ এবং উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যতের সমস্যা সমাধানকারী ও ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্বদানকারী প্রজন্ম গড়ে তুলতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

তাঁরা আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, করপোরেট অংশীদার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন ও আজীবন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ বিকাশে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিস্তারিত জানা যাবে www.itshumanity.org ওয়েবসাইটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *